দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের সময় বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তিনি মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার (৩৮) ওই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী ১৫ এপ্রিল তাঁর স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িতে হামলা চালিয়ে গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া আক্তার বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এবং রোকেয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ওলিউল্লার ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় একই গ্রামের আংগুর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল মিয়া, আনসার মিয়া ও মজিবর মিয়াসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে হাঁস নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং সেই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
ভুক্তভোগীর স্বামী ওলিউল্লাহ দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে গরু লুটের চেষ্টা করা হয়। বাধা দেওয়ায় আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।’
তবে অভিযুক্ত আংগুর মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগের একটি ঘটনার জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
এমএস/